ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৬ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সড়ইবাড়ি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রথম দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থা থাকায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে বিরাজ করছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে হাবিবুর রহমান তালুকদার ও কবির খান গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। গত দুইদিন আগে কবির খানের পক্ষের লোক শহীদ খানকে গ্রামের রাস্তার ওপরে বেদম মারধর করে। এরপর এ নিয়ে গত দুইদিনে দুইদফায় কবির খানের পক্ষের লোকজনের বসতঘর ভাঙচুর, লুটপাট চালায়। সেই জের ধরে মঙ্গলবার ভোর ৬ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত দুইপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আহতদের সংখ্যা জানা যায়নি। তবে সকাল ১০ টার পর থেকে সেখানকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত দুইদিন দুইদফায় তালুকদার গ্রুপের লোকজন অন্যায়ভাবে খান গ্রুপের লোকজনকে মারধর ও বসতঘর ভাঙচুর ও হামলা চালায়। পুলিশ শুরু থেকে দুই পক্ষের মধ্যে আইনি ব্যবস্থা নিলে এ পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতো না। পুলিশের নীরব ভূমিকায় এ পর্যায়ে গড়িয়েছে।
এ ঘটনায় এক পক্ষের নেতৃত্বদানকারী কবির মাতুব্বর জানান, গত পরশুদিন তার পক্ষের লোকজনকে মারধর ও বসতঘরে হামলা, লুটপাট চালায় প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের লোকজন। সেই জের ধরে আজ এ সংঘর্ষ হয়।
প্রতিপক্ষের হাবিবুর রহমান তালুকদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, তার পক্ষের শওকত হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আজও সে জেরেই সংঘর্ষ হয়। এতে তাদের পক্ষের প্রায় ১২ জন আহত হয়।
Ekattor Sangbad একাত্তর সংবাদ